সরিষা চাষ পদ্ধতি জানুন সম্পূর্ণ ভাবে

mustard cultivation method

সরিষা চাষ নির্ভর করে চাষের অঞ্চল এবং জো অথাৎ জমির উপযুক্ত আদ্রতা এর উপর। কয়েকটি নিদিষ্ট মৈশুমে বিষেশ কয়েকটি সরিষার জাত বপন করা যায় আর এগুলো থেকে ৭০ থেকে ৮০ দিনের ভিতরে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সরিষার বিভিন্ন জাত রয়েছে এগুলোর মধ্যে কয়েকটিই বাংলাদেশের কিছু নিদিষ্ট অঞ্চলে চাষ করা হয়ে থাকে।

এ বিভিন্ন জাতের সরিষা গুলো থেকে ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ তৈল থাকে। আর এছারও সষিরার ছাল যাকে খৈল বলা হয়ে থাকে তাতে ৪০ শতাংশ আমিষ থাকে। যা গবাদি পশু বিষেশ করে গরুর মোটা তাজাকরণে খাদ্য হিসেবে বাছাই করা হয়ে থাকে। সরিষা চাষ থেকে একজন সরিষা চাষি তিন ভাবে লাভবান হয়ে থাকে। এক হলো সরিষা বিক্রয় করে আপরটি হলো খৈল বিক্রয় করার মাধ্যমে এবং অন্যটি হলো সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ করার মাধ্যমে।

এ পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো সরিষা চাষ করার জন্য যে তথ্য গুলো সঠিক জানা দরকার তার সব।

Table of Contents

চাষের জন্য সরিষার বিভিন্ন জাত বাছাই

বাংলাদেশে চাষের জন্য যে সরিষার জাত সবচেষে বেশী প্র্রচলিত সেগুলো হলো- রাই, টরি ও শ্বেত। এখানে সরিষার বিভিন্ন জাত এবং এদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো:

কল্যাণীয়া (টিএস-৭৫)

  • কল্যাণীয়া সরিষা
    • কল্যানীয়া সরিষা ফসলের বীজ গোলাকার হয়।
    • হাজারটা বীজের ওজন ২.৩ থেকে ৩.০ গ্রাম পযন্ত হয়ে থাকে।
    • বীজে তেলের পরিমান ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ  হয়ে থাকে।
    • ফসল তোলার যোগ্য হতে ৭৫ থেকে ৮৫ দিন সময় লাগে।
    • নীয়ম মেনে চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়।
    • এটি একটি উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত যা খুবি সল্প মেয়াদি।

সোনালী সরিষা (এস এস -৭৫) এর বৈশিষ্ট

  • সোনালী সরিষা
    • ফলে কক্ষ থাকে ৪টি।
    • প্রতিটি ফল থেকে বীজ পাওয়া যেতে পারে ৩৫ থেকে ৪৫টি।
    • বীজের রং হলদে সোনালি।
    • বীজ গোলাকার।
    • বীজের ওজন হাজার হিসাবে ৩.৫ থেকে ৪.৫ গ্রাম পযন্ত হয়ে থাকে।
    • বীজে তেল পাওয়া যেতে পারে ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ।
    • গাছের কান্ড ও শীকর তুলনামূলক ভাবে শক্ত।
    • অধিক সেচ এবং সার সহ্য করতে সক্ষম।

দৌলত (আর এস- ৮১)

  • দৌলত সরিষা
    • সরিষার এ জাতটি খরা ও লবনাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম।
    • কল্যানীয়ার থেকে এর ফলন একটু কম পাওয়া যায় (উন্নত পদ্বতিতে চাষ করলে কল্যানিয়ার ফলন পাওয়া যায় প্রতি হেক্তরে ১.৪৫ তেকে ১.৫৬ কিন্তু দৌলত ফলন দেয় পওতি হেক্টরে ১.১ থেকে ১.৩ টন।)।

বারি সরিষা -৬ (ধলি)

  • বারি সরিষা -৬ এর বৈশিষ্ঠ
    • বারি সরিষার ফল ২ স্থান বিশিষ্ঠ।
    • প্রত্যেকটি ফলে বীজের সংখ্যা ২২ থেকে ২৫ টি।
    • হাজার বীজের ওজন ৩ থেকে ৪ গ্রাম।
    • বীজের রং হলদে হয়ে থাকে।
    • কান্ড ও শিকর তুলনামূলক ভাবে শক্ত তাই গাছ হেলে পড়ে না।
    • এ জাতের সরিষা তোলার যোগ্য হতে সময় নেয় ৯০ থেকে ১০০ দিন।
    • এ জাতের সরিষার বীজে তেল থাকে ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ।
    • পরিমান মোতাবেক সার ও সেচ দিলে ফলন প্রতি হেক্টরে ১.৯ থেকে ২.২ টন পাওয়া যেতে পারে।
    • ফল তুলনামূলক ভাবে লম্বা।
    • বীজ নিজেথেকে ঝরে পরে না।

বারি সারিষা -৭ (ন্যাপাস-৩১৪২)

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • গাছে ফলের সংখ্যা ৯০ থেকে ১২৫টি।
    • ফল ২ স্থান বিশিষ্ঠ।
    • প্রত্যেকটি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০টি।
    • গাছের পাতা বোটাহীন ও তল মসৃন।
    • ফুলের পাঁপড়ির রং সাদা।

বারি সরিষা-৮ (ন্যাপাস-৮৫০৯)

  • বারি সারিষা -৮ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফল তোলার যোগ্য হতে সময় লাগে ৯০ থেকে ৯৫ দিন।
    • এ জাতের সরিষা গাছেল ফলের ২ স্থান বিশিষ্ঠ।
    • প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৯০ থেকে ১২৫ টি।
    • প্রত্যেকটি ফলে বীজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০টি।
    • বীজের রং কালচে হয়ে থাকে।
    • হাজার বীজের ওজন ৩.৪ খেকে ৩.৬ হয়ে থাকে।
    • বীজে তেলের পরিমান ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ।
    • এ জাতের সরিষা গাছের পাঁপড়ির রং হলুদ হয়ে থাকে।
    • এ জাতের সরিষা গাছ অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ ও সাময়িক জলাবদ্দতা সহনশীল।

বারি সরিষা-৯

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • এটি একটি সল্পমেয়াদি জাত।
    • আমন ধান কাটার পর এবং বোরো ধান চাষের আগে সময়ে এ জাতটি চাষ করা হয়ে থাকে।
    • এটির ফলন টরি-৭ এর চেয়ে শতকরায় ১০ থেকে ২৫ ভাগ বেশী।
    • বীজে তেলের পরিমান ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশ হয়ে থাকে।
    • ফসল তোলার যোগ্য হতে সময় নেয় ৮০ থেকে ৮৫ দিন।

বারি সরিষা -১০

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • এজাতের সরিষা গাছে শাখা প্রশাখা বিভক্ত হয়।
    • পাতা হালকা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে।
    • গাছের উচ্চতা ৯০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে।
    • প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ১০০ থেকে ১২০টি।
    • ফল ২ স্থান বিশিষ্ঠ।
    • বীজে তেলের পরিমান শতকরা ৪২ থেকে ৪৩ ভাগ।
    • হাজার বীজের ওজন ২ থেকে ৩ গ্রাম হয়ে থাকে।

বারি সরিষা-১১

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হয় ১০৫ থেকে ১১০ দিন।
    • বারি সরিষা-১১, দৌলত সরিষা জাতটির চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশী।
    • এজাতটি নাবি জাত হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে।
    • এর প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২ থেকে ১৫টি।
    • এ জাতটি খরা ও লবনাক্তটা সহনশীল।

বারি সরিষা ১২

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • বীজে তেলের পরিমান ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশ হয়ে থাকে।
    • ফসল তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ৭৮ থেকে ৮৫দিন সময়।

বারি সরিষা ১৩

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ৯০ থেকে ৯৫ দিন।
    • বারি সরিষা ১৩ এর ফলন অধিন হয়।

বারি সরিষা ১৪

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ৭৫ থেকে ৮০ দিন।
    • এজাতের সরিষার হাজার বীজের ওজন ৩.২৫ থেকে ৩.৫০ গ্রাম।

বারি সরিষা ১৫

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ৮০ থেকে ৮৫ দিন।
    • হাজার বীজের ওজন ৩.২৫ থেকে ৩.৫০ গ্রাম।

বারি সরিষা ১৬

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • এজাতটি খরা ও লবণাক্তটা সহনশীল।
    • ফসল তোলার সময় ১০৫ থেকে ১১৫ দিন।
    • হাজার বীজের ওজন ৪.৭ থেকে ৪.৯ গ্রাম।
    • এ জাতটি নাবি জাত হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে।

বারি সরিষা ১৭

  • বারি সারিষা -৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ৮২ থেকে ৮৬ দিন।
    • প্রতি হেক্টরে ১.৭ থেকে ১.৮ টন হয়ে থাকে।
    • হাজার বীজের ওজন ৩.০ থেকে ৩.৪ গ্রাম হয়ে থাকে।

রাই-৫

  • রাই-৫ এর বৈশিষ্ঠ
    • গাছে ফলের সংখ্যা ৯০ থেকে ১২০টি হয়ে থাকে।
    • বীজে তেলের পরিমান ৩৯ থেকে ৪০ শতাংশ।
    • পাতা বোটা যুক্ত ও খসখসে।
    • প্রতি গাছে শাখা থাকে ৪ থেকে ৬টি।

বিনাসরিষা-৪

  • বিনাসরিষা-৪ এর বেশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হয় ৮০-৮৫ দিন সময়ে।
    • হাজার বীজের ওজন ৩.৫০-৩.৮০ গ্রাম।
    • বীজের রঙ লালচে কালো।
    • বীজে তেলের পরিমাণ ৪৪ শতাংশ।

বিনা সরিষা-৭

  • বিনা সরিষা-৭ এর বৈশিষ্ঠ
    • বীজের আকার তুলনামূলকভাবে বড় এবং ১০০০ বীজের ওজন ৩.৫০-৪.২৫ গ্রাম।
    • বীজে তেলের পরিমাণ ৩৬-৩৮শতাংশ।
    • তোলার উপযোগি হতে সময় লাগে ১০২-১১০ দিন।
    • হেক্টর প্রতি ফলন ২.০ টন।
    • জাতটি খরা এবং অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ সহনশীল।

বিনা সরিষা-৮

  • বিনা সরিষা-৮ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলতে সময় লাগে ১০০-১০৮ দিন।
    • বীজে তেলের পরিমাণ ৩৯-৪১ শতাংশ ।
    • হেক্টর প্রতি ফলন ২.৪ টন।

বিনা সরিষা-৯

  • বিনা সরিষা-৯ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোহি হয় ৮০-৮৪ দিনে।
    • জাতটি অল্টারনারিয়া জনিত পাতা ও ফলের ঝলসানো রোগ এবং বৃষ্টিজনিত সাময়িক জলাবদ্ধতা  সহনশীল।
    • বীজে তেলের পরিমাণ ৪৩ শতাংশ।
    • হেক্টর প্রতি ফলন গড়ে ১.৬০ টন।

বিনা সরিষা-১০

  • বিনা সরিষা-১০ এর বৈশিষ্ঠ
    • ফসল তোলার উপযোগি হয় ৭৮-৮২ দিনে
    • বীজে তেলের পরিমাণ ৪২ শতাংশ
    • হেক্টর প্রতি ফলন ১.৫ টন।

সরিষা চাষ এর জন্য অঞ্চল গুলো

অল্প খরচে অধিক লাভ জানু বায়োফ্লোক মাছ চাষ সম্পর্কে

বাংলাদেশে সরিষা চাষের জন্য সবচেয়ে উত্তম এলাকা হিসেবে যে এলাকাগুলোকে বাছাই করা হয় বা সবচেয়ে বেশী সরিষা যে অঞ্চল গুলোতে করা হয় সেগুলো হলো:

চাঁদপুর মতলব, হাইমচর, ফরিদপুর – সদর, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া – আখাউড়া, সরাইল, কুষ্টিয়া – মিরপুর, দৌলতপুর, চট্টগ্রাম – দক্ষিণ চট্টগ্রাম এলাকা, বৃহত্তর ঢাকা – ধামরাই, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা – চান্দিনা, দাউদকান্দি, যশোর – সদর ও সংলগ্ন এলাকা, নেত্রকোনা – কোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, পাবনা – বেরা, ফরিদপুর, কক্সবাজার – সদর, রামু৷

সরিষা চাষ এর জন্য আবহওয়া

সরিষাকে রবি ফসল বলা হয়ে থাকে কারন অধিন অনুকুল আবহাওয়া হিসেবে অল্প বৃষ্টি ও অল্প শতল আবহওয়াকে বলা হয়ে থাকে আর তাই এবে রবি ফসর রুপেই চাষ করা হয়।

  • সরিষা বীজের বৃদ্ধি ও বীজে তেলের পরিমান কেমন হবে তা অনেকাংশে আবহাওয়া এর উপর নির্ভর করে থাকে। যে স্বাভাবিক উত্তাপে বীজে তেলের পরিমান অধিক দ্রুত বৃদ্ধি পায়্। আবার অধিক শীতল আবহাওয়াতে বীজে তেলের পরিমান কমে যায়।
  • সরিষা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য তাপমাত্র সেলসিয়াস স্কেলের হিসাবে ১৮ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট থাকাটা এবং আদ্রতা তুলনামূলকভাবে কম এবং পযাপ্ত সূর্যের আলো পৈাছানোটা খুবি গুরুত্ব বহণ করে।

সরিষা চাষ এর জন্য মাটি

সরিষা ধরতে গেলে সবরকম মাটিতেই জন্মায়। তবে ভালো ফলনের জন্য মাটি ধরণ:-

  • হাল্কা দোঁয়াশ থেকে মধ্যমরকমের দোঁয়াশ মাটি হলে ভালো হয়। কারণ এরকম মাটিকেই সরিষা চাষের জন্য আদর্শ মানা হয়।
  • যে জমিতে সরিষা চাষ করা হবে সে জমির পিএইচ মান বা অম্লতা মান ৬ থেকে ৭ এর মধ্যে থাকাটা ভালো। কারণ সুধু সরিষাই নয় জমির পিএইচ মান বা অম্লতার প্রভাব সকল প্রকার ফসলেই পড়ে যা মোটেও লাভবান নয়।
  • জমিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কারন সরিষার কিছু বিষেশ জাত ছারা বাকি অধিকাংশ জাতগুলোই দুর্বল হয়। যে গুলো জল দাঁড়ানো সহ্য করতে পারে না।
  • পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে সরিষা ভালো জন্মায়।

সরিষা বীজ বোনার সময়

সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ বা অক্টোবরের প্রথম ভাগ বোনার উপযুক্ত সময়। এ সময়ের পরে সরিষা বপন করলে ফলন কমে যেতে পারে। কারণ এ সময়ে পোকার আক্রমন এবং রোগবালাই ত্রীব্র হয়ে থাকে।

তবে অঞ্চল ভেদে সরিষা বীজ বোনার সময়ে ভিন্নতা দেখা যায়। কারণ সরিষার লাভজনক বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে আবহাওয়া জলবাযু এর উপর।

মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য কার্তিক মাস পর্যন্ত (ইংরেজি মাস হিসেবে অক্টোবোরের শেষ ভাব থেকে নভেম্বরের শুরুর ভাগ পযন্ত) বোনা যায় কল্যাণীয়া, সোনালী, টরি-৭, বারি-৬, বারি-৭, বারি-৮ এজাতের সরিষা গুলোর বীজ। আর কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ (ইংরেজি মাস হিসেবে নভেম্বর) মাস পযন্ত দৌলত ও রাই-৫ এর বীজ বপন করা যায়।

সরিষা বীজ বপনের জন্য জমি তৈরী

সরিষা বীজ বপনের জন্য কোনো প্রকার ফসল কাটার পর বজি গভীরভাবে চাষ দিতে হবে। কমপক্ষে জমিতে তিন থেকে চারবার চাষ দিতে হবে এবং প্রত্যেকবার চাষের পর মাটির ঢেলা ভেঙ্গে দিতে হবে যাতে মাটি ঝুরঝুরে হয়।

সরিষা বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন

প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম পরিমাণ থীরাম বা ডায়াথেন এম-৪৫ দিয়ে শোধন করতে হবে।

সরিষা বীজ বপন

  • সরিষা চাষে প্রতি হেক্টরে ৬ কেজি বীজের দরকার।
  • সরিষাতে জাবপোকার আক্রমন নির্ভর করে লাগানোর সময় এর উপর।
  • আশ্বিনের মাঝামাঝি থেকে কার্তিকের মাঝামাঝি বীজ বোনার সঠিক সময়।
  • বীজ সারিতে বা ছিটিয়ে বোনা যায়। তোরিয়া বা হলুদ সর্ষের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরুত্ব ৩০ সেন্টিমিটার এবং হাইব্রিড সরিষার ক্ষেত্রে ৪৫ সেন্টিমিটার। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার রাখতে হবে।

সুসংহত পদ্বতিতে খাদ্যের ব্যাবস্থাপনা

জৈব/অনুখাদ্য সারইউরিয়াপটাশজীবানুসার
সকলপ্রকার
সরিষা বীজের জন্য
সার প্রয়োগ
জৈবসার
৫ থেকে ৭ মেট্রিকটন
প্রতি হেক্টরে
সালফার প্রতি হেক্টরে
২০ কেজি জমি
তৈরির সময়
১৪০ কেজি
প্রতি
হেক্টরে
সুপার ফসফেট
১৪০ কেজি
প্রতি হেক্টরে
৫০
কেজি
প্রতি
হেক্টরে
২০ গ্রাম
পি. এস. বি এবং
২০ গ্রাম
এজোটোব্যাক্টর
প্রতি কেজি
বীজের সাথে

পুরোটা সুপার ফসফেট ও পটাশ ও অর্ধেক ইউরিয়া সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের আগে প্রয়োগ করতে হবে। বাকী অর্ধেকটা ইউরিয়া চাপান সার হিবাবে ফুল আসার সময় দিতে হবে।

আবার বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সার প্রয়োগের প্রচল আছে। এখানে এ জাত গুলোর জন্য কোনটির কেমন পরিমানে কোন সার প্রয়োগ করতে হবে তা নিয়েও আলোচনা করা হলো।

সরিষা পরিচর্যা ও জলসেচ ব্যাবস্থা

  • সারিতে বোনার ২ তেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে সঠিক দূরুত্বমত সুস্ত সবল গাছ রেখে, বাকী গাছ তুলে ফেলতে হবে।
  • সর্ষের ভালো ফননের জন্য ১০ দিন পর একবার এবং ২০ দিন পর আরেকবার নিড়েন দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
  • সরিষা সাধারণত জমির উদবৃত তসে চাষ করা হয়ে থাকে। বীজ বোনার সময় জমিতে যথেষ্ঠ রস না থাকলে বোনার আগে একটি সেচ দিয়ে বীজ বুনতে হবে।
  • ফুল আসার সময় ও দানা পুস্ট হওয়ার সময় সেচ দিলে সরিষার ভালো ফলন পাওয়া যায়।

সরিষা ফসল রক্ষা করা

ফসলের লাভজন উৎপাদনের জন্য তার উপর বিভিন্ন পোকার আক্রমন এবং বিভিন্ন প্রকার পরজীবীর আক্রমন থেকে ফসলকে রক্ষা করতে হয়। আর এজন্য এখানে আমরা সরিষা চাষের ক্ষেত্রে যে পোকাগুলো সার্বিক ক্ষতি সাধন করে সেগুলোর সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলো।

সরিষা ফসলের ক্ষতিতে জাপ পোকা

সরিষা ফসলের মূল কীট শত্রু জাব পোকা। জাব পোকার শাবক এবং পুর্ণাঙ্গ উভয়েই সরিষা গাছে আক্রমন করে। এ পোকাগুলো মূলত সরিষা গাছের উপরে নরম কচি অংশে বসে রস শোষন করে থাকে।

জাব পোকা বাতাসে ভেসে অনের দুর পযন্ত বিচরণ করতে সক্ষম। এদের আক্রমনের মাত্রা অদিক হলে এ পোকাগুলো ফসলের ফলেও আক্রমন করে আর একারণ ফসলের ফলে দানা পুষ্ট হয় না। অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে বীজ বপন কলে নিলে এদের আক্রমনের দ্বার মারাত্বক ক্ষতির হাত থেকে ফসল রক্ষা করা যায়।

জাপ পোকা আক্রমণের লক্ষণ

  • কান্ড ও শুটিতে দাগ দেখা যায়।
  • সরিষা গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • ফলন কমে যায়।
  • পাতা, গুটি ইত্যাদি কুচকে যায়।

জাপ পোকার বৈশিষ্ঠ

jab poka
জাব পোকা

জাব পোকা দেখতে হাল্কা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। এদের ৬টি পা থাকে এবং এরা লম্বাটে দেহি হয়ে থাকে। এদের মাথায় ২টি পুঞ্জাক্ষি থাকে এবং মুখে একটি সরু ধারালো নল থাকে। এর আকারে ছোট হয়।

জাপ পোকার প্রতিকার

জাব পোকা নিষন্ত্রণে আনার জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড ১মি.লি প্রতি ৫ লিটার জলে গুলে সমস্ত গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

সরিষা ফসলের ক্ষতিতে কাটুই পোকা

কাটুই পোকা এবং করাত মাছি

পোকাগুলি মাটিতে বাস করে এবং চারা গাছের গোড়া কেটে দেয়। রাতের দিকে এদের আক্রমন বেশী হয়ে থাকে।

কাটুই পোকা প্রতিকার

ক্লোরোপাইরিফস ২০ শতাংশ প্রতিলিটাের জলে ২.৫ মিলি হিসেবে মিশিয়ে পড়ন্ত বেলায় প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া যায়।

সরিষা ফসলের ক্ষতিতে করাত মাছি

কালচে বাদামী রং এর লার্ভাগুলি পাতা কেয়ে গাছ ন্যাড়া করে ফেলে, ফলে ফলন কমে যায়।

করাত মাছি প্রতিকার

করাত মাছি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইমিডক্লোপ্রিড ১ মিলি প্রতি ৫লিটার জলে মিশিয়ে সমস্ত গাছে ভালোভাবে স্প্রে করত হবে।

সরিষা ফসলের ক্ষতিতে ধ্বসা রোগ

এই রোগের আক্রমনে গাছের বিভিন্ন অংশ যেমন পাতা, কান্ড ইত্যাদিতে বাদামী রং এর গোলাকার দাগ পরে। সময়মত প্রতিকার ব্যাবস্থা গ্রহণ না করলে ফলনের উপর বিরুপ প্রভাব পরতে পারে।

ধ্বসা রোগ প্রতিকার

ধ্বসা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো শোধিত বীজ ব্যাবহার করতে হবে। তাছাড়া ম্যানকোজেব ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
সাদা মরচে পরা রোগ।

সাদা অথবা হালকা হলুদ বর্ণের ছোট্র উচু আকৃতির দাগ পাতার নীচে ভাগ দেখতে পাওয়া যায়। অনেক সময় শেকড় ছাড়া সমগ্র গাছে এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়। আক্রন্ত গাছে ফুলে ফল ধরে না।

ধ্বসা রোগ প্রতিকার

  • একই গোত্রের শস্য শস্যপর্যায়ে অন্তর্ভূক্ত কার উচিত নয়।
  • ফসল তোলার পর গাছের অবশিষ্ট অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
  • ৩ শতাংশ বেশি রোগে আক্রান্ত হলে মেটালেক্সিল (রিডোমিল এম জেড) ৩ গ্রাম হিসাবে প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া সাদা মরচে রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াতেন এম-৪৫, ৩ গ্রাম প্রতি লিটার জলে বা বেভিস্টিন প্রতি লিটার জলে ১-২ গ্রাম হিসাবে মিশিয়ে স্প্রে করলেও রোগ দমন হয়।

সরিষা ফসলের ক্ষতিতে পাউরি দাগ রোগ

প্রাথমিক পর্যায়ে সাদা ময়দার গুড়োর মত ছত্রাকের দাগ পাতার দুই অংশে পরিলক্ষিত হয়। রোগের তীব্রতার সঙ্গে এই দাগগুলি গাছের অন্যান্য সবুজ অংশেও দেখা যায়।

পাউরি দাগ রোগ প্রতিকার

শস্য বৃদ্ধির প্রথম অবস্থায় আক্রমন হলে জলে দ্রবণীয় সালফার (সালফেক্স) ২গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

সরিষা ফসল তোলা

  • বীজ বোনার ৭০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে তোলিয়া সরিষা এবং ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে হলুদ, বাদামী ও রাই সরিষা তোলার উপযুক্ত হয়।
  • গাছের পাতা ও গুঁটি হলদে বাদামী বর্ণের হওয়ার সাথে সাথে সরিষা গাছ কাটতে হবে। তা না হলে গুঁটি ফেটে জমিতে পড়ে যেতে পারে।
  • কাটার পর গুঁটি সমেত গাছ, ৫থেকে ৬ দিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
  • লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুঁটি থেকে বীজ আলাদা করে নিতে হবে। তারপর বীজগুলি রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে।

google fit

No Comments

Leave a Reply

Categories

Featured