বায়োফ্লোক, মাছ চাষে সেরা প্রভাবক

বায়োফ্লোক কে জলের প্রাকূতিক ফিল্টার বলা চলে কারন এটি জলে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে নেয় আর মাছের বসবাসের সুউপযোগি করে তুলে। আর তাছারা মাছ এটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এতে প্রোটিনের পরিমাপ অধিক থাকে যার কারণে এটি গ্রহনে মাছের বূদ্ধি দ্রুত হয়।

বায়োফ্লোক হলো এমন এক পদ্বতি যার মাধ্যমে খুব সহজেই খুব সীমিত জায়গায় ভালো পরিমানের মাছ চাষ করে ফেলা সম্ভব হয়। এটি সম্পূর্ণ নতুন এতটি পদ্বতি তবে খুবি লাভজনক একটি কৈশল। আর এর অণুসারে অনেক তরুন মাছ চাষিরা বেশ ভালো সফলতাও অর্জন করে চলেছে।

তবে কিছূ সংখ্যক নতুন চাষিরা আছে যারা বার বার ব্যার্থ হয়ে চলেছে। আর এ বায়োফ্লোক পদ্বতি কী ভাবে কাজ করে, কী ভাবে এ কৈশলে পরিকল্পনা করলে সফলতা পাবে, এবং এর বিস্তারিত নিয়ে এ পোস্টে আলোচনা করবো।

বায়োফ্লোক পদ্বতিতে বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল উদ্দোক্তা হলো ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার সরাইলের জিহাদ আহমেদ। জিহাদ আহমেদের এ পযন্ত পৈছতে গিয়ে ব্যার্থ হয়েছেন অনেক বার। আর পরবর্তিতে জিহাদ আহমেদ ছোট ভাই এর পরামর্শে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া গিয়ে বায়োফ্লকের ওপর প্রশিক্ষন নেন আর এর পরে সফলতা অর্জন করেন।

বায়োফ্লোক এর উপকারিতা

বায়োফ্লোক এ উপকারি প্রায় অনেক বেশী। তবে আমার জানা ধারণা উপর ভিত্তি করে আমি কিছু আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম:

মাছের দ্রুত বূদ্ধি নিশ্চিত করে

বায়োফ্লোক এর একটি বিষেশ গুণ হলো এটি জলকে ফ্লিল্টার করে যার মানে এটি জলে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু, এবং ক্ষতিকর পদার্থ গুলোকে নষ্ট করে দেয় এবং জলের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রন করে যার কারনে মাছ থাকে সুস্থ আর মাছের বূদ্বি হয় স্বাভাবিক এর চেয়ে একটু বেশী দ্রুত।

মাছের প্রোটিন খাদ্য হিসেবে আসাধারণ উপাদান

বায়োফ্লোক পদ্বতিতে সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অথাৎ উপকারী ব্যাক্টেরিয়া যা অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া এবং বায়ু থেকে পাওয় কার্বনডাইঅক্সাইড ব্যাবহার করে এক প্রকার আমিষ জাতিয় খাদ্য প্রস্তুত করে যা মাছ তার খাদ্য হিসেবে ব্যবাহর করে থাকে।
আর তাছারা বায়োফ্লোক পদ্বতিতে যে ব্যাক্টেরিয়া অনুজীব ব্যাবহার করা হয় সেগুলো মাছের মল ও উচ্ছিষ্ট খাদ্যকে প্রক্রিয়াকরণ করে প্রোটিনে রুপান্তর করে।

অধিক হারে লাভ

বায়োফ্লোক পদ্বতিতে লাভের পরিমান অনেক বেশী। কারণ এ কৈশল করতে তেমন খরচ হয় না। সাধারণত একজন মাছ চাষির মাছের খাবারের পেছনেই অধিক খরচ হয় আর যেহেতু এ পদ্বতিত ব্যাক্টেরিয়া অনুজীবগুলো নিজেই প্রোটিন সমূদ্ব খাদ্য তৈরি করে থাকে আর মাছ তা গ্রহণ করে থাকে তাই বাইরে হতে খাদ্যে যোগান ততটা বেশী হয় না।

অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন নেই বললেই চলে

যেহেতু এ সিস্টেমে উপকারি ব্যাক্টেরিয়া ব্যাবহার করা হয়ে থাকে সেহেতু এ পদ্বতিতে বাইরে থেকে তেমন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করতে হয় না। তবে যুদি সিস্টেমের সাম্যতার ব্যাঘাত ঘটে তবে একাধিক রাসায়নিক পদার্থ বা পানি পরিবর্তন করার প্রয়োজন পরতে পারে।

সল্প পরিসরে অধিক উৎপাদন

এ পদ্বতিতে জমি খোদাই করার কোনো প্রয়োজন পরে না, পরিমাপ মত ট্যাংক ব্যবহার করে মাছ চাষ করা যায়। এতে করে খুব অল্প জায়গায় কিছু সংখ্যক ট্যাংক স্থাপন করে মাছ চাষ করা যেতে পারে।

মাছের চাষের মুনাফা বূদ্ধি

মাছের চাষে মুনাফার বূদ্ধি খুবি ভাল হয় কারণ বলাহয় খাদ্য রুপান্তরের হার যত কম হবে তত মাছের চাষে মুনাফা বেশী হবে। আর এ পদ্বতিতে খাদ্য রুপান্তরের হার হ্রাস পেয়ে থাকে যার কারণে অর্জিত মুনাফা তুলনামূলক ভাবে সাধারণ চাষের চেয়ে অধিক।

বায়োফ্লোক পদ্বতিতে পানি এবং ফ্লক তৈরি

বায়োফ্লোক পদ্বতিতে মাছ চাষের ক্ষেত্রে পানি এবং ফ্লক তৈরির বিষয়টিকে খুবি নির্ভুলতার সাথে করতে হয়। কারন রাসায়নিক সাম্যতার একটু পরিবর্তন ঘটলে মাছের জন্য সেটি খুবি খারাপ ফলাফল তৈরি করতে পারে। যা লাভ জনক তো হবেই না বরং ক্ষতির পরিমান অধিক হবে।

বায়োফ্লোক পদ্বতি আসলে বিভিন্ন জাতের মাছের জন্য আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তবে আমি যে পদ্বতি সম্পর্কে আপনাদের বলেছি তা প্রায় বেশীর ভাগ মাছের জাতের ক্ষেত্রে খুব ভালো চলে যায়।

তবে কোনো অভিজ্ঞ বায়োফ্লোক উদ্দোক্তার কাছ থেকে পশিক্ষণ নিয়ে নিলে বা কোনো কূষি সংস্থার সাহায্য নিয়ে নিলে ভালো হবে।

ইবনে ওমর ফুড থেকে আরও পড়ুন:

হামদর্দ এর ঔষধ সমূহ এবং এর ডিবিশন সমূহ

ওজন কমানোর উপায় ডায়েট চাট সম্পকে জেনে নিন

সর্দির ঔষধ একই সাথে বিজ্ঞান আর ঘরোয় পদ্বতি-Ibneomarfood

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং এ সম্পর্কিত সেরা বই সমূহ

পানি সংগ্রহ

আপনি যখন বায়োফ্লোক প্রস্তুত করছেন তখন আপনাকে পানি সংগ্রহের দিকে নজর দিতে হবে। কারন আপনার পানির উৎস যুদি হয় এমন যাতে অ্যামোনিয়া বা অন্য কোনো উপাদানের পরিমান অধিক হয় তবে দেখা যাবে আপনার প্রস্তুতকূত পানিটি এর সাম্যতা থেকে বিচ্যুত হয়ে পরবে।
এ জন্য আপনি ব্যাবহার করতে পারেন নলকূপের পানি। লেক, নদী বা সমুদ্রের পানিও ব্যাবহার করতে পারবেন।

পানি সংগ্রহ করার পর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ট্যাংক জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। আর এর পর পানির ক্ষানিক পরিক্ষ নিরিক্ষার কাজ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে আপনার বাছাইকূত পানিতে যে বৈশিষ্ঠ গুলো থাকতে হবে সেগুলো হলো:

  • লবণাক্ততা হবে ৩ থেথে ৫ পার্টস পার থাউজেন্ট বা ppt
  • তাপমাত্রা হবে সেলসিয়াস স্কেলের হিসাবে ২৫ থেকে ৩০ ড্রিগ্রি সেলসিয়াস
  • পিএইচ হবে (pH) ৭.৫ থেকে ৮.৫
  • খরতা হবে ৬০ থেকে ১৫০ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • ক্ষারকত্ব হবে ৫০ থেকে ১২০ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • ক্যালসিয়াম হবে ৪ তেকে ১৬০ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • অ্যামোনিয়া হবে ০.০১ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • ফসফরাস হবে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • নাইট্রেট হবে ০ থেকে ৩ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • নাইট্রাইট হবে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • হাইড্রোজেন সালফাইড (H2s) হবে ০.০১ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • টিডিএস () হবে ১৪০০০ থেকে ১৮০০০ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • আয়রন হবে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম প্রতিলিটারে
  • ফলকের ঘনত্ব হবে ৩০০ গ্রাম প্রতি টন হিসেব করে
  • পানির স্বচ্ছলতা হবে ২৫ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার
  • পানির গভীরতা হবে ৩ থেকে ৪ ফুট
  • পানির বর্ণ হবে সবুজ, হালকা সবুজ বা বাদামী

প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির মিশ্রণ সঠিক ভাবে ঘটিয়ে সে পানি ট্যাংকে রাখতে হবে।

ফ্লক তৈরি

বায়োফ্লোক

ফ্লক তৈরি করার পূর্বে ভালো করে দেখে নিবেন যে পানিতে আয়রনের পরিমান কেমন। আর যুদি পানিতে আয়রনের পরিমান অধিক হয় তবে পানিকে ফিল্টার করে বা ক্রমাগত অক্সিজেন সর্বরাহ করে আয়রনের পরিমানকে নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে।
অক্সিজেন সর্বরাহ করার ফলে অক্সিজেন আর আয়রন মিলে ফেরিকঅক্সাইড উৎপন্ন করে আর পানির উপরে ভেসে উঠে আর এভাবে খুব সহজেই পানি থেকে আয়রন সরানো যায়।এ জন্য প্রথম ডোজে:

  • ৫ পিপিএম প্রোবায়োটিক
  • ৫০ পিপিএম চিটাগুড়
  • ৫ পিপিএম ইস্ট
  • পানি প্রতি টনের জন্য ১ লিটার

২য় দিন থেকে

  • ১ পিপিএম প্রোবায়োটিক
  • ৫ পিপিএম চিটাগুড়
  • ১ পিপিএম ইস্ট
  • মিশ্রণের প্রটি টনের জন্য ১লিটার পানি দিয়ে নিদিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে প্রতিদিন প্রয়োগ করতে হবে।

যে ভাবে বুঝবেন ফ্লোক প্রস্তুত হচ্ছে

ফ্লক প্রস্তুত হওয়ার সময় কিছু বৈশিষ্ট দেখা যাবে:

  • পানির রং সবুজ বা বাদামি দেখাবে
  • পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনা দেখাবে
  • পানির অ্যামোনিয়া পরিক্ষা করলে পানির অ্যামোনিয়া মুক্ত দেখাবে
  • প্রতি লিটারে পানিতে ০.৩ গ্রাম ফ্লকের ঘনত্ব দেখাবে
  • ক্ষুদিপানা দেখাবে এবং ধিরে ধিরে এদের বংশ বিস্তার ঘটবে

ফ্লক প্রস্তুত করার সময় কিছু বিষয় এর উপর মনোযোগ রাখতে হবে। সে বিষয় গুলো হলো তাপমাত্রা, পানির গুণাগুণ, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ এ সকল বিষয় গুলোর উপর কারণ তাপমাত্রা সচরাচর রাতের বেলায় পরিবর্তিত হয়ে থাকে আর এ প্রভাব ফ্লক এর বূদ্বির ক্ষেত্রে খুবি করুন হতে পারে্।

বি:দ্র: আপনাকে কাজ গুলো করার সময় কিছূ যন্ত্র হাতের কাছে রাখতে হবে। যাতে করে আপনি রাসয়নিক পরিবর্তন গুলো নজরে রাখতে পারেন আর প্রয়োজন মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

No Comments

Leave a Reply

Categories

Featured