গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকা জেনে নিনি

gastric medicine names

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকায় যে ঔষধটি সবার আগে থাকে সেটি হলো রেনিটিডিন। ১০০ টাকা হলে এক পাতা রেনিটিডিন কিনে নেওয়া যায়। এ ঔষধটি আপনি কোনো প্রকার পেসক্রিপশন ছারাই খেয়ে নিতে পারবেন।

কিন্তু কিছু দিন আগেই আমেরিকা এ রেনিটিডিন ঔষধটি গ্রহণের সতর্কতা ঘোষণা করেছে। তারা ঘোষণা করেছে অধিক পরিমানে রেনিটিডিন গ্রহণের ফলে মানব দেহে ক্যান্সার এর মতো কঠিন রোগও বাসা বাধতে পারে।

তবে এখন পযন্ত এর পক্ষে কোনো প্রকার উপসর্গ কারও শরিরে দেখা যায় নি। তার পরেও সতর্ক হয়ে রেনিটিডিন খাওয়াটা ভালো হয়।

এখন প্রায় সকলেই গ্যাস্টিক হতে দেখা যায় ছোট বড় সবারই এ সমস্যাটি হয়ে থাকে। কারণ আজকালকার খাবারের মধ্যে তেলে ভাজা খাবার গুলোই সবচেয়ে বেশী দেখা যায়।

আবার অধিক ক্ষন খালিপেটে থাকলেও গ্যাস্টিক এর সমস্যাতি তৈরি হয়। যুদিও খালিপেটে থাকা কালিন সময় তেমনা অনুভব হয় না তবে খাবার গ্রহণের সময় খাবাও খাওয়া যায় না।

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকা

বর্তমানে বাংলাদেশেল ২৫০টিরও বেশী বৈধ লাইসেন্সধারি ফার্মিসিক্যাল ঔষধ তৈরির কম্পানি আছে। তাদের মধ্যে কিছু হলো একমি, এভারেস্ট, জেনারাল, স্কয়ার আরও অনেক ঔষধ কম্পানি আছে যেগুলো গ্যাস্টিক এর ঔষধ তৈরি করে বাজারজাত করে থাকে।

ইউনানি ঔষধ তালিকা জানতে জেনে নিনি ইউনানি ফার্মিসি গুলোর নাম

তবে এ সকল বেন্ড গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে গ্রাস্টিক এর ঔষধ ক্রেতাদের মধ্যে বিক্রিয় হয় সেটি হলো একমি কম্পানির উৎপাদিত গ্যাস্টিক এর ঔষধ।

এবং পরে সবচেয়ে বেশী বিক্রি হয় স্কয়ার কম্পানির উৎপাদিত গ্রাস্টিক ঔষধ। বাকি কম্পানি গুলোর গ্যাস্টিক এর ঔষধ তেমন বেশী বিক্রি হয় না।

কিছু ঔষধ কম্পানির উৎপাদিত কিছু ঔষধেল তালিকা নিচে প্রকাস করলাম:

  1. রেনিটিডিন
  2. মাক্সপ্রো
  3. রাবিপ্রাজল
  4. লোসেকটি
  5. ফিনিক্স ২০
  6. ইসুটিন ২০
  7. ওপি ২০
  8. ইসোমিপ্রাজল বিপি
  9. নিউ ট্রাক
  10. সেকলো
  11. ওর ট্রাক
  12. এক্সিলক 20
  13. সার্জেল
  14. এন্টারসিড

যে কোনো ফার্মিসি থেকে আপনি খুব সবজেই যে কোনো একটি কিনে খেয়ে নিতে পারবেন।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার আরও কিছু কারণ হল

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধের নামের তালিকা

গ্যাস্টিক বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। নিচে কিছু কারণ উল্লেখ করলাম।

  • অম্লতা
  • বদহজম
  • পেট ফোলা
  • অম্বল
  • ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া
  • কিডনিতে পাথর
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • টিউমার
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং
  • আলসার
  • পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ
  • ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা
  • Celiac রোগ
  • ক্রোনের রোগ
  • ডায়াবেটিস
  • পাকস্থলীর ক্ষত
  • বিরক্তিকর পেটের সমস্যা

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার লক্ষণ

গ্যাস্টিক সমস্যা হলে যে লক্ষণ গুলো সচরাচার দেখা যায় সেগুলো হলো:

  • বমি বমি ভাব বা বারবার পেট খারাপ হওয়া
  • পেট ফোলা
  • পেটে ব্যথা
  • বমি
  • বদহজম
  • পেট ব্যথা
  • আলসার
  • পেটে জ্বালাপোড়া
  • হেঁচকি
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • বমি রক্ত বা কফি মাটির মত উপাদান
  • কালো, টারি মল

কিভাবে গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণ করা যায়

আপনি যদি ভাবছেন কীভাবে বাড়িতে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধান করবেন, এখানে কয়েকটি সহজ টিপস রয়েছে:

প্রচুর পানি পান করুন, আপনার খাদ্যতালিকায় লেবুর রস অন্তর্ভুক্ত করুন, গরম পানি পান করুন এবং বেকিং সোডা ও লেবু ব্যবহার করুন।

এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ, বাটারমিল্ক এবং পুদিনার রস পান করাও সাহায্য করে।
আপনি চা পান করার চেষ্টা করতে পারেন।

জেনে নিন বিভিন্ন প্রকার ব্যাথার ঔষধ এবং এদের বিস্তারিত

এক কাপ উষ্ণ মৌরি, ক্যামোমাইল বা আদা চা আপনাকে পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রাইটিসের মূল কারণ সমাধান করতে সাহায্য করতে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। আপনার ডায়েটে পুরো শস্য জাতীয় খাবার, ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।

আপনি যখনই সম্ভব বাড়িতে খাবার তৈরি করে স্বাস্থ্যকর খাবারের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
ভাজা এবং জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

আপনার ছোট খাবার খাওয়ারও লক্ষ্য রাখা উচিত। আপনি যদি বড় খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সেগুলি ভাঙতে শুরু করুন যাতে আপনি সারাদিনে ছোট খাবার খান। এটি পেটে ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।

গ্যাসের সমস্যায় করণীয়

ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিক সমস্যা প্রতিরোধ করতে আপনি যা করতে পারেন তা এখানে:

নির্দিষ্ট খাবার যেমন গরম এবং মশলাদার খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, ফাইবার পানীয় এবং পরিপূরক, সিগারেট খাওয়া এবং অ্যালকোহল পান, চুইংগাম ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

জল এবং চা পান করুন। আপনার খাদ্যতালিকায় পেপারমিন্ট, আপেল সিডার ভিনেগার মিশ্রিত পানি, লবঙ্গ এবং ল্যাকটেজ সাপ্লিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করুন এবং প্রয়োজন অনুসারে ঔষধ খান।

পেটে গ্যাসের সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় সে সম্পর্কে অনেক টিপস রয়েছে, তবে আপনার অবস্থার তীব্রতার উপর নির্ভর করে উপযুক্ত বিকল্পটি বিবেচনা করা উচিত। যদি এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি সাহায্য না করে তবে আপনাকে অবশ্যই একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের সাথে দেখা করতে হবে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট হলেন গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি) চিকিত্সার জন্য সেরা ব্যক্তি। হার্টবার্ন বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স নামেও পরিচিত, GERD তখন বিকশিত হয় যখন পাকস্থলীতে উপস্থিত অ্যাসিড পাকস্থলী থেকে অন্ননালীতে চলে যায়।

এটি একটি জ্বলন্ত সংবেদন সৃষ্টি করে। এই ব্যাধির চিকিৎসার জন্য, Transoral Incisionless Fundoplication (TIF) ব্যবহার করা হয়।

এটি একটি ছেদ-কম প্রক্রিয়া যেখানে একটি বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে খাদ্যনালীর প্রবেশপথে একটি নতুন অ্যান্টি-রিফ্লাক্স ভালভ তৈরি করা হয়। এটি খাদ্যনালীতে অ্যাসিড প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আপনার ডাক্তার আপনার অবস্থা নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করতে পারেন, যার মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে-

আপার এন্ডোস্কোপি – উপরের এন্ডোস্কোপি হল একটি পরীক্ষা যা আপনার ডাক্তারকে আপনার খাদ্যনালী, পাকস্থলী এবং ছোট অন্ত্রের একটি ছোট অংশ পরীক্ষা করতে সক্ষম করে।

আপার এন্ডোস্কোপি ইসোফাগোগাস্ট্রোডুওডেনোস্কোপি বা ওজিডি নামেও পরিচিত। একটি পাতলা এবং নমনীয় টিউব, যাকে এন্ডোস্কোপ বলা হয়, আপনার মুখের মধ্যে রাখা হয় এবং ধীরে ধীরে গলা দিয়ে খাদ্য নল, পাকস্থলী এবং অন্ত্রে প্রবেশ করে।

টিউবের শেষে একটি ক্যামেরা রয়েছে যা আপনার ডাক্তারকে আপনার পেট এবং ছোট অন্ত্রকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে সক্ষম করে।

রক্ত পরীক্ষা – রক্ত ​​পরীক্ষা অন্যান্য রোগগুলিকে বাতিল করতে সাহায্য করে যা অনুরূপ লক্ষণ এবং উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। আপনার ডাক্তার হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি (এইচ. পাইলোরি) নামক একটি ব্যাকটেরিয়া যা সাধারণত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করে তা দেখার জন্য একটি পরীক্ষার সুপারিশ করতে পারেন।

মল পরীক্ষা বা ফেকাল অকল্ট ব্লাড টেস্ট – একটি স্টুল কালচার পাচনতন্ত্রে অস্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পরীক্ষা করে যা গ্যাস্ট্রাইটিস এবং অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

একবার গ্যাস্ট্রিক সমস্যার অবস্থা এবং পর্যায় নির্ণয় করা হলে, একটি চিকিত্সা পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। গ্যাস্ট্রাইটিসের চিকিত্সার মধ্যে রয়েছে:

পেটের অ্যাসিড কমাতে অ্যান্টাসিড এবং অন্যান্য ঔষধ

ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে গ্যাস্ট্রাইটিসের জন্য, আপনার গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বুকজ্বালা কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি ঔষধের একটি রেজিমেন লিখে দেবেন।

আপনার খাদ্য থেকে বিরক্তিকর খাবার বাদ দিলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার প্রভাব বাড়ে। সাধারণত, এই খাবার দুগ্ধ থেকে ল্যাকটোজ বা গম থেকে গ্লুটেন হয়।

গ্যাস্ট্রাইটিসে আক্রান্ত বেশির ভাগ লোকই ঔষধ ও চিকিৎসা শুরু করার পর উন্নতি দেখায়।

google fit

Categories

Featured