থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম এবং উপকারিতা

eating thankuni leaves

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম হলো প্রতিদিন সকালে কিছু কয়েক থানকুনি পাতা নিয়ে তা রস করে এর সাথে ১চা চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারবেন। থেতে নিয়ে ত্বকে ও চুলেও ব্যবহার করে নিতে পারবেন।

আমাদের চারপাশ ঘিরে আছে অনেক অনেক ঔষুধ উুদ্ভিদ। তবে সবগুলো সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা থাকে না। তবে ছোট থেকেই এই একটি উদ্ভিদের নাম আমরা আমাদের দাদি নানিদের কাছ থেকে শুনে আসছি।

আসলে এ উদ্ভিদটির আছে আসাধারণ ঔষুুধি ‍গুণাগুণ। আজ আমরা থানকুনি পাতা খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং এটি ব্যবহারের উপকারিতা জানব।

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম সঠিকটা

থানকুনি পাতা আপনি চাইলে সুধুযে সরবত করে খেতে পারবেন তা কিন্তু নয়। আপনি থানকুনি পাতা কাচাও চিবিয়ে খেতে পারবেন এতে আপনি যেমন উপকার এটি সরবত করে খেয়ে পেতেন সেটা কাচা থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলেও পাবেন।

আবার আপনি যুদি কোনো ভাবেই এর সরবত করে বা কাচা চিবিয়ে খেতে না পারেন তবে আপনি চাইলে আপনি এর বড়া করেও খেতে পারবেন।

সাধারণ সবজির বড়া যেভাবে করে ডাল বা ময়দা বা পেয়াজ দিয়ে সেভাবেই করে নিতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে এটি দিয়ে লারা করেও খেতে পারবেন।

আপনি যেমন ভাবেই থানকুনি পাতা খান না কেন আপনি এক গ্লাস সরবত করে খেয়ে যে গুগাগুন পাবেন থানকুনি পাতার লারা করে খেলেও আপনি ঠিক সেই গুগাগুনই পাবেন। কারণ এর গুগাগুন রান্নার সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যায় না।

এখন আপনি যুদি না জেনে থাকেন যে আপনি কি ভাবে লাড়া করবেন বা বড়া করবেন তবে কোনো চিন্তা নেই আমি আম এখানে নিয়ম লিখে দিলাম:

থানকুনি পাতার সরবত তৈরি

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম

প্রতিদিন সকালে তাজা থানকুনি পাতা এনে তার রস করে তার সাথে তার সাতে মধু মিশিয়ে সরবত করে খেয়ে নিতে পারবেন।

আপনি কি জানেন আপনার সুন্দর্য যে ভিটামিনটি কয়েকদিনেই বাড়িয়ে দিতে পারে তার নাম

থানকুনি পাতার বড়া করার পদ্বতি

থানকুনি পাতার বড়া তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে:

  • থানকুনি পতা
  • কাচা মরিচ
  • পেয়াজ
  • সাদ অনুসারে নুন
  • হলুদ গুরো (পরিমান মতো বেশী ব্যবহার করলে স্বাদ খারাপ হয়ে যেতে পারে)
  • শুকনো মরিচ গুড়ো (পরিমান মতো যেমন ঝান আপনার পছন্দ)
  • বেসন (পরিমান মতো)
  • তেল (সয়াবিন বা সরিষা)

সবকিছুর যোগার হয়ে গেলে এবার থানকুনি পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে তার পর কেটে কুচি কুাচি করে নিন। এবার কাচামরিচ কেটে, পেয়াজ কুচি করে এগুলো একসাথে মিশিয়ে, মিশ্রণের সাথে পরিমান মতো হলুদ, মরিচ গুড়া, স্বাদ মতো লবন মিশেয়ে দিন।

এবার বেসন দিয়ে হালকা পানি মিশিয়ে ভালো করে নারিয়ে নিন। চাইলে আপনি একটু আটা বা ময়দাও নিয়ে নিতে পারবেন। এবার পেনে বা কড়াইয়ে প্রয়োজন মতো তেল নিয়ে তার পর সেটি গরম করে নিন।

এবার আপনি এক এক করে আপনার বড়া ছেরে দিন। একটু বাজার পর আপনার বড়া হয়ে যাবে। এবার আপনি গরম গরম খেয়ে নিতে পারবেন থানকুনি পাতার বড়া।

থানকুনি পতার লাড়া করার পদ্বতি

থানকুনি পাতার লাড়া তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে:

  • থানকুনি পাতা
  • কাচা মরিচ
  • কালো জিরা
  • তেল (সরিষার বা সয়াবিনের)

এবার থানকুনি পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে এগুলো পেস্ট করে নিন। পেস্ট করার পর তার সাথে কাচা মরিচ, কালো জিরা, তেল এবং আপনি যুদি মিস্টি খেতে পছন্দ করে তবে হালকা চিনি নিয়ে একটি বাটিতে মিশিয়ে নিন।

এবার পেনে বা কড়াইয়ে তৈল নিয়ে গরম করে পেস্ট ডেলে দিয়ে কিছুক্ষন নাড়া চাড়া করে নিন। আর কিছুসময় পর পেস্টটি তুলে নিন। তৈরি হয়ে গেছে আপনার লাড়া। এবার আপনি এ লাড়া গরম ভাতের সাথে খেয়ে নিতে পারবেন।

থানকুনি পাতার গুণাগুন

থানকুনি পাতা একসাথে অনেক ধরণের রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। আর থানকুনি পাতার এ গুণের জন্য কবিরাজ সাস্ত্রে এবং আয়রবিদ সাস্ত্রে এটির কথা বিষেশ ভাবে উল্লেখ করা হয়।

মেথী কটতা উপকারি আর গুণাগুন নষ্ট না করে খাওয়ার নিয়ম

বলাহয় থানকুনি পাতা সুমাত্রা, শ্রীলঙ্কা, ফ্রাস্ন, জাভা, আফ্রিকা এবং ফিলিপিন্সে যিশু খ্রিষ্টের জন্মের আগে থেকে সেই ১৭ শতক থেকেই চিকিৎসা সাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

থানকুনি পাতা যেমন খাওয়া যায় ঠিক তেমনি থানকুনি পাতা চুলে বা ত্বকেও প্রয়োগ করা যায়। আর ঠিক এই কারণে রুপ বর্ধন সাস্ত্রেও এর বিষেশ গুরুত্ব আছে।

এ উদ্ভিদটিতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়ে থাকে। থুলকুড়ি, আদামনি, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, তিতুরা, টেয়া, ঢোলামানি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে এটি বেশী পরিচিতি পেয়ে গেছে।

আমরা ধাপে ধাপে জেনি নিবো থানকুনি পাতা নামের উদ্ভিদটি আমাদের জন্য কতটা উপকারি।

ক্ষতের চিকিৎসায় আসে

থানকুনি পাতাতে থাকে Saponins নামক একটি বিশেষ উপাদান আর এটি মানবদেহের রক্তচলাচল এর পরিমান বাড়িয়ে দেয়। যার কারনে ক্ষত খুব জলদিই শুকিয়ে যায়। আর তাছারা এটি যে কোনো প্রকার সংক্রামন রোধ করে থাকে।

রক্তের প্রবাহ নিয়মিত রাখে

থানকুনি পাতা যার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Centella Asiatica যেটি নিয়মিত খেলে সারা শরিরে অক্সিজেন সমৃদ্ব রক্তের চলাচলের পরিমান বেড়ে যায়।

আর তাছারা এটি পায়ে যন্ত্রনা এবং পা ফুলে যাওয়ার সমস্যারও সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে।

থানকুনি পাতা থ্রম্বোসিস এর মতো রুগকেও দমন করার ক্ষমতা রাখে। কারণ থানকুনি পাতাতে এমন একটি বিষেশ উপাদান থাকে যেদি রক্ত জনাট বাধাকে বাধাগ্রস্ত করে থাকে।

এটি শরীরের রক্ত জমাট বাধাকে প্রতিহত করে মানব দেহে রক্তের প্রবাহ সবল লাখে আর সুস্থ রাখে।

শরীরের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা কমায়

থানকুনি পাতাতে রয়েছে অধিক মাত্রার অ্যান্টি-িইনফ্লেমেটরি উপাদান যার কারণে মানব দেহে হওয়া ইনফ্লেমেটরি বা প্রদাহ দমন হয়ে থাকে।

চা-পাতা করে দিবে দুর্লভ ভিটামিন বি১২ এর সন্ধান

সাধারণত শরীরের ভিতরে প্রদাহ সৃষ্টি হলে নানা প্রকার সমস্যা দেথা দেয়। যেমন জ্বর জ্বার ভাব হয়ে থাকা, ক্লান্তি অনুভব করা, পেশিতে যন্ত্রনা, মাথা চড়া দিয়ে উঠা।

থানকুনি পাতা খাওয়ার সাইড এফেক্ট

যেমন ঔষুধের সাইড এফেক্ট থাকে ঠিক খানিক এমন থানকুনি পাতাতেও আছে। আপনি যুদি প্রয়োজনের অধিক থানকুনি পাতার রস খেয়ে ফেলেন তবে আপনার কিছু সমস্যা হতে পারে।

  • রক্ত চাপ কমে যাওয়া
  • চুলকানি বা এলার্জির রিঅ্যাকশ
  • ভয়ানক পেট ব্যাথা
  • মাথা ঘোড়ানো আর বমি বমি ভাব লাগা

সুতারাং উপকারের জন্য পরিমান মতো খান। পরিমানে অধিন খেয়ে ফেললে উপকারের বিপরিতে সমস্যা হতে পারে।

খেয়াল রাখুন আপনার স্বাস্থের

No Comments

Leave a Reply

Categories

Featured