ঔষধি গাছের তালিকা জেনে নিন কোনটিতে কী উপকার

list of medicinal plants

নিম, বনধনে, মেন্দা, ভাট ফুল বা বনজুঁই, তুলসী, টিরতা, পাথরকুচ, তকমা, কেশরাজ , অর্জুন, রিফিউজি লতা, জবা, লজ্জাবতী এমন কিছু ঔষধি গাছের তালিকা এখানে সেয়ার করবো।

আরও কিছু ঔসুধি গাছের নাম হলো লেমন বাম, রোজমেরি, চ্যামোমিলে, হলুদ, আদা, সেজ গাছ, পেপারমিন্ট, দূর্বা ঘাস, ধুতুরা, থানকুনি, স্বর্ণলতা, শতমূলী, বিলিম্বি, সাজনা, বাসক ইত্যাদি।

মানবজাতির শুরুর দিকে যখন চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান তাতটা উন্নত ছিল না তখন লতাপাতা এবং বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছ গাছালি থেকে বিভিন্ন রোগের ঔষধ তৈরি করা হত।

বলতে গেলে বর্তমানের যে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি ঔষধ গুলি আছে তখনকার সময়েল গাছ লতা পাতা দিয়ে তৈরি ঔষধ গুলো এগুলোর থেকে কোনো দিক দিয়ে কম ছিল না।

আর এখন এ চিকিৎসাকে আয়রবিদিক বা হারবাল চিকিৎসা নাম দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও এর চাহিদা ‍খুদি গভীর। তবে বর্তমানে আগের মতো এখন আর এ ঔষধি গাছ গুলো আর পাওয়া যায় না।

যা পাওয়া যায় তাও আবার খুব কম পরিমানে আর খুবি কম পরিসরে এগুলো সম্পর্কে মানুষেল কৈতুহল। আজ আমরা আমাদের এ লেখাটিতে আপনাদের সাথে এ ঐষধি গাছ এবং এদের কাজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছের তালিকা

আমরা এখানে কিছু বিষেশ ধরনের ঔষদি গাছের তালিকা আপনাদের সামনে তুলে ধরব আর সেগুলো কোনটা কী কী কাজে আসে তাও আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

1. দূর্বা ঘাস

এমন কোনো জমি আছে বলে আমার মনে হয় না যেখানে দূর্বা ঘাস দেখা যায় না। পথে ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় এ ঘাসগুলো হয়ে ভরে থাকে। আর যুদি এর ঔষধি গুণের কথা বলি তবে এ ঘাসগুলো খুবি দ্রুত কেটে যাওয়া অংশের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।

আর তাছার এটি বিভিন্ন প্রকার চর্ম রোগের জন্য খুব ভালো কাজ করে। যুদি বিজ্ঞানের ভাষায় বলি তবে বলতে হবে দূর্বা ঘাসে প্রচুর পরিমানে এন্ডি অক্সিডেন্ট রয়েছে।

2. লজ্জাবতী

এটিকে অন্জলিকারিকা নামেও জানা হয়। এটি ডায়ারিয়ার জন্য একটি খুবি অসাধান ঔষধ। এর শিকর পিষে গুড়ো করে খেলে ডায়ারিয়া রোগ মুক্তি ঘটে। আর ঘা বা পাচঁরা নিরাময়ের জন্য এটি সচরাচর করিবাজি ঐষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

হাড়ের ব্যাথা জনিত কারণ বাতজ্বারের ক্ষেত্রেও গাছটি পিষে দিলে উপকার পাওয়া যায়। আর তাছার শরীর জলা এবং আমাশয় এর রোগের জন্য লজ্জাবতী গাছেল মিশ্রণ অধিক কাজে আসে।

3. জবা

জবা গাছের পাতা এবং উভই ব্যবহার করা ঔষধ হিসেবে। জবা গাছের পাতা জন্ডিসের জন্য খাওয়া হয়ে থাকে।

এর ফুলের রস নারীদের মাসিক ও স্রাবজনিত সমস্যার জন্য খুবি উপকারি। জন্ডিসের জন্য এর পাতা এবং ফুল দুইই গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়।

4. রিফিউজি লতা

এটিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় তবে গাছ একটাই। এটি শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সহায়তা করে।

5. অর্জুন

এই গাছের প্রায় সবকিছুই ঐষধ হিসেবে ব্যবাহার করা হয়। হৃদরোগ উপশমে, বুকের ব্যথার জন্য অর্জুনের ছাল গুড়ো করে খেয়ে থাকে মানুষ। মচকে গেলে বা হড় চিড় ধরলে রসুনের সঙ্গে মিশিয়ে অর্জুনের ছাল বেটে লাগালে উপাকার হয়।

6. বাসক

ঠান্ডার জন্য, ফুসফুসের নানা সমস্যায় বাসক পাতার রস ফুটিয়ে সেই রস বা পানি পান করলে ভালো উপশম হয়। তবে অধিক মাত্রায় খেলে বমি ভাব হয় আর তাই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হয়।

বৈজ্ঞানিকেরা বলে শ্বাসনালীর সমস্যায় লালাগ্রন্থিকে বাসকের রস সক্রিয় করে। আর এতে করে এ জনিত সমস্যার উপশম ঘটে।

7. বনধনে

বনধনে গাছটির পাতাগুলি দেখতে ধনে পাতার মতো। আর তাই এদের নাম বনধনে। বনধনে ডায়ারিয়া, পেট ব্যথা, ঘা-পাঁচরার জন্য খুবি কার্যকরি ফলাফল দেয়।

8. নিম

নিম এর গুণ সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। কারণ নিম হলো এমন একটি ঔসধি গাছ যেটি সম্পর্কে আমাদের দাদা দাদিরা সবসময় আমাদের বলতেই থাকে।

তবে এটা সত্য যে নিম আসলেই অনেক কার্যকরি একটি গাছ।

দাতের ব্যথার জন্য, চামড়ার অ্যালার্জি, একধরণের ফক্স যেটিকে অনেকে চিকেন ফক্সও বলে থাকে সে রোগের জন্য গরম পানিতে নিমের পাতা মিশিয়ে ব্যবাহর করলে ভালো উপশম হয়।

আর তাছারা ডায়াবেটিস রোগীরা নিমের পাতা শুকিয়ে ট্যাবলেটের মতো করে নিয়মিত খেয়ে থাকে।

9. বনজুই বা ভাট ফুল

খাদ্য ও পুষ্টির পিডিএফ বই ডাউনলোড করে নিন এখান থেকে

ঔষধি গাছের তালিকা

চর্ম রোগিরা এ ফুলটির রস করে সংক্রামিত স্থানে মালিশ করলে ভালো উপাকার পায়। এটি কৃমি নাশক হিসেবেও পরিচিত।

ডায়ারিয়ার জন্য এবং কৃমির সমস্যার জন্য এর পাতা রস করে কাচা হলুদের সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

10. চিরতা

চিরতাকে কালোমেঘ নামেও মানুষ ডেকে থাকে। ডায়াবেটিস এর রোগীরা এ গাছটি খুব ভালো ভাবেই চিনে কারণ ডায়াবেটিস এর রোগীরা এ গাছটি খেয়ে থাকে।

এর পাতা রস করে পানির সাথে মিশিয়ে পতিদিন সকালে খায় আনেকে। এটি বিভিন্ন প্রকার পেটের সমস্যা বাত ব্যথা ও জ্বরের জন্য খুবি ভালো ফল দেয়।

11. পাথরকুচি

গ্রামে একটা প্রচলিত ধাণা আছে আর সেটি হলো পাথরকুচি কিডনির পাথর ভঙ্গাতে সহায়তার করে, যুদিও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

তবে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছে জ্বর এবং পেটে ফাপাঁ  জনিত সমস্যায় তারা ভালো উপকার পেয়েছে আর তাছার এটি চামরার এলার্জির জন্যও ভালো কাজ করে।

আর ঠান্ডা জনিত সমস্যাতেও এ পাথরকুচির পাতা রস করে খাওয়া হয়ে থাকে। আর এতে ভালো ফলাফলও পাওয়া যায়।

12. কালোকেশী বা কেশরাজ

বৈজ্ঞানিক ভাবে এটি ছত্রাকরোধী বা অ্যান্টিফাঙ্গাস হিসেবে প্রমাণিত। আর তাছারা এটি বহুকাল ধরে একটি খুবি সুপরিচিত চুলের যন্তে খুবি কার্যকরি উপকরণ হিসেবে ব্যবাহর করা হয়।

আর এছারা এটি মেয়েদের মাসিক সমস্যায় পাতার রস করে খেয়ে থাকে। আর অনেকের মতে তারার ভালো ফলও পেয়েছেন বলে জানান।

13. থানকুনি

থানকুনি খুবি পরিচিত একটি ঐসুধি গাছ। আর করুনার সময় তো এর পরিচিতি আরও বেড়ে গিয়েছিল একটি গুজবের কারণে। তবে ঐটুকু গুজব হলেও থানকুনি গাছের কিন্তু সত্যি সত্যি অনেক গুণ আছে।

এ গাছটির পাতা চুল পড়া কমায়, হাজম শক্তি বাড়ায়, কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্বি করে। এর পাতা ভর্তা করে বা রস করে খাওয়া যায়।

14. স্বর্ণলতা

ক্ষত উপশমে, তলপেট ব্যথা কমানো, জন্ডিস নিরাময়ে এ লতার কাজ গবেষণায় প্রমানিত।

এ লতা সেদ্ধ করে পানি পান করলে কৃমি ও পিত্ত নাশক এর ক্ষেত্রে খুবি কার্যকরি। তবে বলা হয় এ স্বর্ণলতা কাজ করলেও কিছু ক্ষাতিও করে যায়।

15. শতমূলী

এটি বন্ধ্যাত্ব নিরাময় এবং শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে। সেই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়েন্ত্রনেও সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, ভিটামিন বি, ফাইবার থাকে।

17. বিলম্বি

বিলম্বি এক ধরণের ফল। আর এটি ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রনে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

এটির উপকারিতা অনেক তবে আপনি যুদি কিডনির রোগ বা কিডনির সমস্যায় ভুগে থাকুন তবে এটি আপনার জন্য জম রুপ নিবে। এটি ভুলেও ব্যবহার করবেন না।

18. আদা

  • কোষ্ঠবদ্ধতা কমায়।
  • পেটফাঁপা সমস্যার একটি আসাধারণ সমাধান।
  • এতে থাকা এনজাইম গুলো পেটে বায়ুনাশে প্রমাণিত।
  • এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
  • এতে আছে নানা ধরণের পুষ্টি উপাদান।

19. হলুদ

যেমন রুপচচ্চায় তেমনি হৃদরোগ এবং আলঝেইমার রোগের মতো রুগের চমৎকার প্রভাব দেখায় হলুদ।

20. রোজমেরি

Rojmeri

এটি এর আসাধারণ সুগন্ধের জন্য পরিচিত। আর এটির মধ্যে বিদ্যমান যৌগ গুলো হলো কেফিক ও রোজরিনিক অ্যাসিড। অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয় রোজমেরি। রোজমেরি চাপ উপশম করে আর বিষন্নতা হৃাস করে।

বিষেশ করে এটি রুপচচ্চার দ্রব্য হিসেবে খুবি ভালো কাজ দেখায়। আর তাই এটি বেশীর ভাগের কাছেই রুপচচ্চার দ্রব্য হিসেবে পরিচিত।

গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন খাদ্য ও পুষ্টি

No Comments

Leave a Reply

Categories

Featured